দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জয়পুরহাট সদর উপজেলার দূর্গাদহ ঢুলিপাড়া এলাকায় বন্দনা রানি দাস নামে এক গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের দাবি পারিবারিক কলহের জের ধরে তাকে তার স্বামী মারপিট করে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় স্বামী রাজকুমার দাসকে আটক করেছে পুলিশ।
আটককৃত রাজকুমার দাস সদর উপজেলার দুর্গাদহ ঢুলিপাড়া গ্রামের বাবলু দাসের ছেলে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, রাজকুমার দাস বিভিন্ন সময় তার স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন। গতরাতে সেলাই মেশিন নেওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। স্বামী তার স্ত্রীকে মারধরও করে। পরে ভোররাতে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায় গৃহবধুর শশুর। এসময় লাশ নামিয়ে রেখে স্থানীয়দের খবর দেন গৃহবধুর স্বামীর পরিবার। এরপর পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় আটক করা হয়েছে স্বামী রাজকুমারকে। এছাড়াও স্থানীয়রা জানান, রাজকুমার পরকীয়া আসক্তির কারণে তার স্ত্রীকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করতো। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
নিহতের বোন সাধনা বলেন, আমার বোন জীবন দেয়নি। অন্য মেয়ের চক্ররে পড়ে আমার বোনকে মেরে ফেলা হয়েছে। এটি আত্মহত্যা আমার বোনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সে আত্মহত্যা করেনি। তাকে হত্যা করা হয়েছে।
এলাকাবাসী লুৎফর রহমান, ইদ্রিস আলীসহ আরও অনেকে জানান, রাজকুমারের অন্য মেয়ের সাথে পরকীয়া ছিল। এ নিয়ে রাজকুমার তার স্ত্রীকে প্রায় মারধর করতো। এ নিয়ে বিচার শালিসও হয়েছিল। গতরাতেও তাদের মধ্যে ঝগড়ার হয়। সেই রাতেই রাজকুমার তার স্ত্রীকে মারধর করে হত্যা করেছে।
নিহতের স্বামী রাজকুমার দাস হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার স্ত্রী সেলাই মেশিন কিনে চেয়েছিল। কিন্তু আমার কাছে টাকা না থাকায় পরে দিতে চেয়েছি। এ নিয়ে কথাকাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। পরে তারা মেয়ে ঘুমিয়ে গেছে। রাত তিনটার দিকে জানতে পারি সে গলায় ফাঁস দিয়েছে। আমি তাকে হত্যা করিনি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রেজাউল করিম লিটন বলেন, স্থানীয়ভাবে জানতে পারলাম কেউ বলছে, তাকে মেরে ফেলা হয়েছে। রাতের তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছে। অপরাধ যদি করে থাকে তাহলে তার যেন শাস্তি হয়।
জয়পুরহাট থানার উপ পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় মরদেহ নিচে নামানো হয়েছে। আমরা মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছি। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলে মৃত্যুর আসল রহস্য জানা যাবে।
কে